
নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন ফসলী বিলে জলাবদ্ধতার কারনে আমন ধান রোপন করতে পারছেন না কৃষকরা। ইতোপূর্বে ফসলী জমি থেকে টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় নীচু হয়ে যাওয়া ধানী জমিতে জলাবদ্ধতার ফলে পানি জমে থাকায় ধানের চারা রোপন করতে না পারায় চাষ মৌসূম পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানান চাষী ও গৃহস্থরা। বর্ষা মৌসূম শুরু হওয়ার পর গত প্রায় দুই মাস ধরে রেকর্ড পরিমান বৃষ্টি হয়। এ বৃষ্টির পানি এখনো জমে আছে অপেক্ষাকৃত নীচু ধানক্ষেতে। ফলে ধানের চারা রোপন করা সম্ভব হচ্ছেনা।চাষী,কৃষক ও ভূমি মালিক সূত্রে এমনটি জানা গেছে জালালাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ফরাজী পাড়ার কৃষক জাফর আলম বলেন, জেলার অন্যতম শষ্য ভান্ডার জালালাবাদ ধনকা বিলে গলা সমান বৃষ্টির পানি এখনো জমে আছে । ফলে মৌসূম প্রায় শেষ হতে চললেও ধানের চারা রোপন করা যাচ্ছেনা। আবু ছালেহ বলেন, প্রতিবছর ফসলী জমি থেকে টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় জমি নীচু হয়ে গেছে। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।ফরিদ মিয়া বলেন, প্রতিবছর অগ্রাহায়ন মাসে ধানকাটার পরপরই উপজেলার ডজনখানেক ইটভাটা একযোগে কৃষি জমি থেকে টপ সয়েল কাটতে শুরু করে। এতে জমি নীচু হতে হতে এখন প্রায় জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। উপজেলার ফসলী জমির বিল সমূহের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে জালালাবাদের ধনকা বিল। জেলার শষ্য ভান্ডার খ্যাত তিন সহস্রাধিক হেক্টর আয়তনের এ আবাদী বিলে দুই দশক আগে থেকেই বসানো হয়েছে দুটি ইট ভাটা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত বেশ কটি ইট ভাটার জন্য প্রতিবছর ধনকা বিল থেকে মাটি কেটে নেয় টপসয়েল লুট কারীদের সংঘবদ্ধ একাধিক সিন্ডিকেট। সাবেক মেম্বার নূরুল আলম বলেন,শুস্ক মৌসূমে ইট ভাঁটায় টপ সয়েল কাটার ফলে বিল নীচু হয়ে যাওয়ায় ধানক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই ধানের চারা রোপন করতে না পারায় আমন মৌসুম পিছিয়ে যাচ্ছে। ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কমকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ধনকা বিলে জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
